উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬/১০/২০২২ ৯:৪৭ এএম
রোহিঙ্গা

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের তাসনিমারখোলা (ক্যাম্প-১৩) আশ্রয়শিবিরে দুই রোহিঙ্গা নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আশ্রয়শিবিরের এ ব্লকের একটি দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন ওই শিবিরের হেড মাঝি মো. আনোয়ার (৩৮) ও সাব মাঝি মো. ইউনুস (৩৮)।

তাসনিমারখোলা আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় মো. আনোয়ার ও মো. ইউনুসকে হত্যা করা হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্য। এই নিয়ে গত তিন মাসে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে প্রত্যাবাসনের পক্ষের অন্তত ১১ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত হেড মাঝি মো. আনোয়ার তাসনিমারখোলা আশ্রয়শিবিরের এফ ব্লকের ২ নম্বর শেডের রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদের ছেলে এবং সাব মাঝি মো. ইউনুস ২ নম্বর শেডের সৈয়দ করিমের ছেলে।

রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহকারী পুলিশ সুপার (অপারেশন অ্যান্ড মিডিয়া) মো. ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ১৫-২০ জনের একটি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দল আশ্রয়শিবিরে একটি দোকানের সামনে ক্যাম্পের রোহিঙ্গা হেড মাঝি মো. আনোয়ার ও সাব মাঝি মো. ইউনুসের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান মো. ইউনুস। গুরুতর আহত মো. আনোয়ারকে উদ্ধার করে আশ্রয়শিবিরের অভ্যন্তরে এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মো. ফারুক আহমেদ আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে শিবিরে অভিযান চালানো হচ্ছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই আশ্রয়শিবিরের একজন রোহিঙ্গা নেতা বলেন, রোহিঙ্গা মাঝি ইউনুস ও আনোয়ার প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করেন এবং তাঁদের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা যুবকদের কয়েকটি দল আশ্রয়শিবিরে রাত্রিকালীন পাহারার দায়িত্ব পালন করে। এর ফলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের তৎপরতা সীমিত হয়ে আসছিল। তাই এ হামলা চালিয়েছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। এতে অংশ নেয় ২০ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আরসা সদস্য রয়েছেন।

সুত্র: প্রথম আলো

পাঠকের মতামত

 

টেকনাফের ‘জাফর চেয়ারম্যান’ দুনীর্তির দায়ে ৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ...

অপহরণ-সন্ত্রাসে জনশূন্য জুম্মাপাড়া, আতঙ্কে ঘরছাড়া ২০০ পরিবার

রহমত উল্লাহ • কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অপহরণ আতঙ্ক বিরাজ ...

কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণের উদ্যোগে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু

কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ...